কেন স্থগিত হলো খামেনির জানাজা? রহস্যময় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যা জানা গেল

 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি—এমন খবর প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, চলমান সংঘাত ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে খামেনির নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরান-এ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্ভাব্য অভূতপূর্ব জনসমাগম, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠানটি পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ঘোষণা করা হয়, “শহীদ ইমামের বিদায়ী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।”

গত শনিবার তেহরানে সংঘটিত হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরান সরকার এ ঘটনাকে ‘সরাসরি আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রইসরাইল-কে দায়ী করেছে। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে কালো পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল এবং শোকসভা আয়োজন করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বড় ধরনের সমাবেশ সীমিত রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তেহরানে লাখো মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। তার আগে তিনি ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর তিনি দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসীন হন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কৌশল এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নেতৃত্ব ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

তার আকস্মিক মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। উত্তরসূরি নির্ধারণ, ক্ষমতার ভারসাম্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতত রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত থাকলেও নতুন তারিখ ঘোষণা হলে ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ইরানজুড়ে শোকের আবহের মধ্যেই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

Next Post Previous Post