ব্যবসায়ীর পথরোধ করে টাকা ছিনতাই: বিএনপি নেতা গ্রেফতার
জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে পথরোধ করে মারধর এবং বিপুল পরিমাণ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুন (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে আহত ব্যবসায়ীর বাবা নুর আলম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই প্রধান আসামি হারুনকে আটক করে। পরে শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন উপজেলার বিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন আড়ৎ ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী আব্দুল আলীম, যিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার দিন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিনভর তারা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা সংগ্রহ করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা মোটরসাইকেলে করে উপজেলার মাত্রাই-বিয়ালা সড়ক দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। এ সময় বকুল মোড় এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের পথরোধ করে। এরপর তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও তার সহকারী আব্দুল আলীমকে মারধর করে গুরুতর আহত করে তাদের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। মারধরের একপর্যায়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব আলীর ছেলে হারুন এবং তার ভাই মামুনুর রশিদ। এছাড়া একই গ্রামের রেজাউল ইসলাম, জনাব আলী, রেজাউল করিম ও তোফায়েল আহম্মেদের নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
