দুর্নীতি করলেই অ্যাকশন, দলীয় পরিচয় ঢাল হবে না’: প্রধানমন্ত্রী

 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সরকারের সর্বস্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার আপসহীন থাকবে এবং যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি একটি দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে বড় বাধা। তাই এই সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, সরকার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, যে কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, সে যে দল বা পরিচয়েরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং সকলের জন্য নিরাপদ ও সহনশীল সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে বসেছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং বাম পাশে ছিলেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ঢাকাস্থ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে সবাইকে নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

Next Post Previous Post