সুদের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ: আহত ৫০!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীঘর গ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. আরশ মিয়া গুনিয়াউক ইউনিয়নের চিতনা গ্রামের এক ইউপি সদস্যের কাছে এক লাখ টাকা সুদের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করেন। ওই টাকার জিম্মাদার ছিলেন নুরধন মিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে চিতনা গ্রামের পক্ষ টাকা পরিশোধ না করলে আসলসহ লাভের টাকা নুরধন মিয়াকেই দিতে হতো। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও টাকা আদায় না হওয়ায় আরশ মিয়া নুরধন মিয়ার কাছে পাওনা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
মঙ্গলবার রাতে শ্রীঘর দক্ষিণ চক বাজারে নুরধন মিয়াকে পেয়ে আরশ মিয়া টাকা ফেরত চান। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বিষয়টি থামিয়ে পরদিন সকালে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু বুধবার বেলা ১১টার দিকে সমাধানের বদলে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সাচ্ছারপাড় এলাকার সোহরাব মিয়াকে মারধর করা হয়। এর জেরে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে মজনু মিয়া নামে এক ব্যক্তির টিনের ঘরে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহতদের পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নুরধন মিয়ার পক্ষের আহতদের মধ্যে রয়েছেন সোহরাব মিয়া, উসমান মিয়া, ইমন মিয়া, জুনাইদ মিয়া, গাজী মিয়া ও নুরধন মিয়া। অপরদিকে আরশ মিয়ার পক্ষের আহতদের মধ্যে আছেন আলামিন মিয়া, সুখন মিয়া, জসিম মিয়া, খোকন মিয়া, আরশ মিয়া ও ছোট্ট মিয়া। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন বাইরে চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন জানান, সুদের টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, পাওনা টাকার জিম্মাদারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং পরদিন তা বড় আকার ধারণ করে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দ্বন্দ্বের জেরে পুনরায় সংঘর্ষ হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
-69a84ee0e013d.jpg)