ইরানে জোড়া আতঙ্ক: বিমান হামলার মধ্যেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল দক্ষিণাঞ্চল

 


তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবেও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (EMSC) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৪। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে (ইউটিসি ০৬:৫৫:০৭) এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও তীব্রতা

ভূ-তাত্ত্বিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ছিল ইরানের শিরাজ শহর থেকে প্রায় ২১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং জেরাশ শহর থেকে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। অল্প গভীরতায় উৎপত্তির কারণে কম্পনটি ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বেশ ভালোভাবেই অনুভব করেছেন।

যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের যুগপৎ আঘাত

এই ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে আঘাত হানল যখন পুরো ইরান এক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, কম্পনের সময় দেশটির বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও মিসাইল হামলা চলছিল। একদিকে ওপর থেকে আকাশছোঁয়া বিস্ফোরণের শব্দ, অন্যদিকে নিচ থেকে মাটির কম্পন—এই দুই মিলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বড় কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি

ভূমিকম্পের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ভবন ধস বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে কোনো ভূমিধস হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলমান বিমান হামলার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ভূমিকম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

Previous Post